রাজধানীর দক্ষিণ সায়েদাবাদ এলাকায় তাসলিমা আক্তার (৩৪) নামের এক নারীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ ওরফে রাজুকে (৪১) গ্রেপ্তার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে করাতিটোলা ক্লাব মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজু হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) খালেদ হাসান।
পুলিশের তদন্ত ও রাজুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, নিহত তাসলিমার সঙ্গে রাজুর গত এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রাজু পুলিশকে জানান, সম্পর্কের সুবাদে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাসলিমা তার কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেন।
এই বিশাল অঙ্কের টাকা হারিয়ে রাজু ব্যবসায়িকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হন। শুধু তাই নয়, তাসলিমার সঙ্গে এই পরকীয়া সম্পর্কের জেরে রাজুর স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যান। একদিকে আর্থিক দেউলিয়া হওয়া এবং অন্যদিকে সংসার ভাঙার ক্ষোভ থেকেই তিনি তাসলিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় দক্ষিণ সায়েদাবাদের করাতিটোলা এলাকায় তাসলিমাকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে তার স্বামী রশিদ আহমেদ বাপ্পি ও দেবর নাদিম তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা তার মরদেহ নিয়ে যান। এই ঘটনায় রাজুকে প্রধান আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
নিহত তাসলিমা আক্তার পুরান ঢাকার বংশাল মাহুতটুলী এলাকার জয়নাল মাদবরের মেয়ে এবং তিনি রশিদ আহমেদ বাপ্পির দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত রাজুকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরও কোনো কারণ বা অন্য কারো প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।






















