ঢাকা , শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সাবেক উপাচার্যসহ ২৪ আসামি পলাতক, ট্রাইব্যুনালের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়: দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

সংগৃহীত ছবি

 

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম আইকন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষিত এই রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রথম দিককার অন্যতম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

 

যাদের সাজা হলো

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় প্রদান করেন।

মৃত্যুদণ্ড: পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনেই বর্তমানে কারাগারে আছেন।

যাবজ্জীবন: পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম এবং সাবেক উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। দণ্ডপ্রাপ্ত এই তিনজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এছাড়া মামলার অন্যান্য আসামিদের অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

আসামিদের প্রোফাইল ও বর্তমান অবস্থা

 

এই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ছয়জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্য ছাড়াও রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, মো. আনোয়ার পারভেজ এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

বিপরীতে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক। পলাতকদের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে, যার মধ্যে সাবেক পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান এবং উপকমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন অন্যতম। এছাড়াও রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ স্থানীয় একঝাঁক নেতা মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।

 

 

 

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকা নিরস্ত্র আবু সাঈদকে পুলিশ অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে। সেই ভিডিও চিত্র মুহূর্তেই দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ এই রায় ঘোষিত হলো।

 

আদালত চত্বরে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ছেলের হত্যার বিচারে আমি সন্তুষ্ট। তবে পলাতক খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকর করতে হবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মেগাস্টেডিয়ামে মেসির বিশ্বরেকর্ড: কাইল ফিল্ডে ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব

সাবেক উপাচার্যসহ ২৪ আসামি পলাতক, ট্রাইব্যুনালের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়: দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

Update Time : ০৫:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম আইকন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষিত এই রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রথম দিককার অন্যতম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

 

যাদের সাজা হলো

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় প্রদান করেন।

মৃত্যুদণ্ড: পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনেই বর্তমানে কারাগারে আছেন।

যাবজ্জীবন: পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম এবং সাবেক উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। দণ্ডপ্রাপ্ত এই তিনজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এছাড়া মামলার অন্যান্য আসামিদের অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

আসামিদের প্রোফাইল ও বর্তমান অবস্থা

 

এই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ছয়জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্য ছাড়াও রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, মো. আনোয়ার পারভেজ এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

বিপরীতে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক। পলাতকদের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে, যার মধ্যে সাবেক পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান এবং উপকমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন অন্যতম। এছাড়াও রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ স্থানীয় একঝাঁক নেতা মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।

 

 

 

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকা নিরস্ত্র আবু সাঈদকে পুলিশ অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে। সেই ভিডিও চিত্র মুহূর্তেই দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ এই রায় ঘোষিত হলো।

 

আদালত চত্বরে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ছেলের হত্যার বিচারে আমি সন্তুষ্ট। তবে পলাতক খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকর করতে হবে।”