বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ তথা ‘সভাপতি’ হওয়ার প্রকাশ্য ইচ্ছা পোষণ করেছেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। সম্প্রতি ‘সামিরস্কেন’ নামক একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি দেশের ক্রিকেটের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার এই আগ্রহের কথা জানান। তামিমের এই মন্তব্য দেশের ক্রিকেট মহলে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পডকাস্টে আলাপকালে তামিমকে প্রশ্ন করা হয়, ভবিষ্যতে তাকে বিসিবির সভাপতি পদে দেখা যাবে কি না। জবাবে কোনো রাখঢাক না রেখেই সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, “যদি সুযোগ আসে, অবশ্যই আমি এই দায়িত্ব নিতে চাই। আমি মনে করি, এই পদের জন্য আমার প্রয়োজনীয় সামর্থ্য আছে এবং ক্রিকেটিং সার্কেলে আমার কাজের ধরন সম্পর্কে অনেকেরই ইতিবাচক ধারণা রয়েছে।”
বিসিবির সবশেষ নির্বাচনেও তামিম ইকবালের অংশ নেওয়ার গুঞ্জন ছিল। তবে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তার সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের একটি বড় অংশও নির্বাচন বর্জন করেছিল। সেই ঘটনার স্মৃতি চারণ করে তামিম ইঙ্গিত দেন যে, সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে তিনি ক্রিকেটের প্রশাসনিক সংস্কারে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।
বোর্ডের শীর্ষ পদে বসার জন্য ‘অভিজ্ঞতা’ নাকি ‘সৎ উদ্দেশ্য’ বেশি জরুরি—এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম কিছুটা কড়া সুরেই কথা বলেন। তিনি বলেন, “২০ বছর ধরে যারা বোর্ডে ছিলেন, তারা তো অনেক অভিজ্ঞ। কিন্তু তারা বিসিবিকে কতটুকু এগিয়ে নিতে পেরেছেন? বিসিবি কি খুব ভালো চলছে? এতদিন তো আপনারা অভিজ্ঞদের ওপরই ভরসা করেছেন। এবার না হয় আমাদের মতো অনভিজ্ঞ কিন্তু স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষদের ওপর একবার বিশ্বাস করে দেখুন।”
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নাটকীয় অবসর এবং পরবর্তীতে প্রত্যাবর্তনের পর নানা জটিলতায় বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়া—সব মিলিয়ে তামিমের ক্যারিয়ারে গত কয়েক বছর ছিল ঝোড়ো। বর্তমানে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ক্লাব ক্রিকেটে সংগঠক হিসেবে বেশ সক্রিয় এই তারকা ব্যাটার। এখন দেখার বিষয়, বিসিবির আগামীর নেতৃত্বে তামিম ইকবালের মতো তরুণ ও সাহসী সংগঠকদের জায়গা হয় কি না।

















