কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য প্লেস্টোরকে আরও নিরাপদ করে তুলছে গুগল। ২০২৫ সালের বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে গুগল জানিয়েছে, গত এক বছরে তারা প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ ক্ষতিকর অ্যাপ ব্লক করতে সক্ষম হয়েছে। উন্নত এআই-চালিত বহুস্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে প্লেস্টোরে ক্ষতিকর অ্যাপ আসার হার আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে যেখানে ব্লক করা অ্যাপের সংখ্যা ছিল সাড়ে ২৩ লাখ, এআইয়ের কড়া নজরদারিতে সেই সংখ্যা এবার অনেকটা হ্রাস পেয়েছে।
গুগল এবং প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট-এর তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতিটি অ্যাপ উন্মুক্ত করার আগে ১০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এমনকি অ্যাপ প্রকাশিত হওয়ার পরেও নিয়মিত পুনরায় পরীক্ষা চালানো হয়। গুগলের কর্মীরা এখন অত্যাধুনিক ‘জেনারেটিভ এআই’ মডেল ব্যবহার করে ক্ষতিকর অ্যাপের ধরন বা প্যাটার্ন অনেক দ্রুত শনাক্ত করতে পারছেন। এর ফলে অসাধু ডেভেলপারদের জন্য ক্ষতিকর অ্যাপ প্রকাশ করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেবল অ্যাপ ব্লক করাই নয়, অ্যাপের রেটিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেও এআই বড় ভূমিকা রাখছে। গুগল জানিয়েছে, তারা প্রায় ১৬ কোটি স্প্যাম রেটিং ব্লক করেছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘রিভিউ বোম্বিং’ থেকে অনেক অ্যাপকে রক্ষা করেছে। এছাড়া, ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যে অনধিকার প্রবেশ ঠেকাতেও গুগল সফল হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার অ্যাপকে ব্যক্তিগত তথ্যের অতিরিক্ত অ্যাক্সেস নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে, যা গত বছরের ১৩ লাখের তুলনায় অনেক কম।
গুগল প্লে প্রটেক্ট-এর মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ নতুন ক্ষতিকর অ্যাপ শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো ব্যবহারকারীদের ফোনে চালু হতে বাধা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৮৫টি দেশের প্রায় ২৮০ কোটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে এই উন্নত জালিয়াতি প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রয়েছে। এছাড়া প্লেস্টোরের বাইরে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ‘সাইডলোডিং’ করার প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ প্রচেষ্টাও রুখে দিয়েছে গুগল। গুগল জানিয়েছে, একটি নিরাপদ ইকোসিস্টেম বজায় রাখতে তারা এআই চালিত সুরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 




















