ঢাকা , শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা বৃদ্ধ নাঈমুদ্দিনের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা বৃদ্ধ নাঈমুদ্দিনের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানীর ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উচ্ছেদ অভিযানের মুখে পড়ে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর শঙ্কায় ছিলেন ৮০-ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ নাঈমুদ্দিন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক মানবিক প্রতিবেদনের পর পাল্টে গেছে তার জীবনের দৃশ্যপট। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ এই বৃদ্ধের সঙ্গে কথা বলে তার আজীবনের ভরণপোষণ ও স্থায়ী বাসস্থানের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।

 

 

ঘটনার সূত্রপাত গতকাল বুধবার, যখন মগবাজার এলাকায় ডিএমপির উচ্ছেদ অভিযান চলছিল। অভিযানের সময় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ বৃদ্ধ নাঈমুদ্দিনের অসহায়ত্ব দেখে এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক সিদ্ধান্ত নেন।

 

চারপাশের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলেও বৃদ্ধের ছোট্ট দোকানটি উচ্ছেদ না করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দোকান উচ্ছেদ হবে না’। এই ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তা মুহূর্তেই দেশজুড়ে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের হৃদয়ে নাড়া দেয়।

 

 

এই মানবিক বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১৩ মিনিটে সরাসরি নাঈমুদ্দিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী নাঈমুদ্দিনের বর্তমান অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাকে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার ও তার দল সবসময় তার পাশে থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃদ্ধ নাঈমুদ্দিনের জন্য স্থায়ী ঘর নির্মাণ, উন্নত চিকিৎসা এবং আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সংগঠনটিকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

জানা গেছে, বর্তমানে রাজধানীর মগবাজার এলাকাতেই নাঈমুদ্দিনের থাকার সুব্যবস্থা ও চিকিৎসার তদারকি করবে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার সহমর্মিতা এবং সরকারপ্রধানের সরাসরি হস্তক্ষেপে একজন অসহায় বৃদ্ধের জীবনের অনিশ্চয়তা কাটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

 

প্রশাসনের কঠোর আইনের মাঝেও যে মানবিকতা বেঁচে থাকে, ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সিনেমা হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দেখলেন বনলতা এক্সপ্রেস

উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা বৃদ্ধ নাঈমুদ্দিনের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা বৃদ্ধ নাঈমুদ্দিনের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

Update Time : ১০:২৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানীর ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উচ্ছেদ অভিযানের মুখে পড়ে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর শঙ্কায় ছিলেন ৮০-ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ নাঈমুদ্দিন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক মানবিক প্রতিবেদনের পর পাল্টে গেছে তার জীবনের দৃশ্যপট। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ এই বৃদ্ধের সঙ্গে কথা বলে তার আজীবনের ভরণপোষণ ও স্থায়ী বাসস্থানের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।

 

 

ঘটনার সূত্রপাত গতকাল বুধবার, যখন মগবাজার এলাকায় ডিএমপির উচ্ছেদ অভিযান চলছিল। অভিযানের সময় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ বৃদ্ধ নাঈমুদ্দিনের অসহায়ত্ব দেখে এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক সিদ্ধান্ত নেন।

 

চারপাশের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলেও বৃদ্ধের ছোট্ট দোকানটি উচ্ছেদ না করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দোকান উচ্ছেদ হবে না’। এই ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তা মুহূর্তেই দেশজুড়ে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের হৃদয়ে নাড়া দেয়।

 

 

এই মানবিক বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১৩ মিনিটে সরাসরি নাঈমুদ্দিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী নাঈমুদ্দিনের বর্তমান অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাকে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার ও তার দল সবসময় তার পাশে থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃদ্ধ নাঈমুদ্দিনের জন্য স্থায়ী ঘর নির্মাণ, উন্নত চিকিৎসা এবং আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সংগঠনটিকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

জানা গেছে, বর্তমানে রাজধানীর মগবাজার এলাকাতেই নাঈমুদ্দিনের থাকার সুব্যবস্থা ও চিকিৎসার তদারকি করবে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার সহমর্মিতা এবং সরকারপ্রধানের সরাসরি হস্তক্ষেপে একজন অসহায় বৃদ্ধের জীবনের অনিশ্চয়তা কাটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

 

প্রশাসনের কঠোর আইনের মাঝেও যে মানবিকতা বেঁচে থাকে, ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।