ঢাকা , শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পেন্টাগনে অস্থিরতা: যুদ্ধকালীন রদবদলে লানিভ হলেন নতুন সেনাপ্রধান

ইরান যুদ্ধের উত্তাপের মাঝেই মার্কিন সেনাপ্রধান জর্জ বরখাস্ত

ছবি : রয়টার্স

 

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ৪১তম চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে তাঁর পদ থেকে আকস্মিক বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ।

 

 

মার্কিন শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী একজন সেনাপ্রধান চার বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করলেও, নিয়োগের মাত্র তিন বছরের মাথায় জর্জকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

 

জেনারেল জর্জের বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পরেই পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে তিনি সরাসরি ‘বরখাস্ত’ শব্দটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, জেনারেল জর্জ সেনাবাহিনীর ৪১তম চিফ অব স্টাফের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।

 

 

পার্নেল আরও উল্লেখ করেন, “যুদ্ধ বিভাগ আমাদের জাতির প্রতি জেনারেল জর্জের কয়েক দশকের সেবার জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমরা তাঁর সুন্দর অবসর জীবন কামনা করি।” তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিবিএসকে জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীতে নতুন ধরনের নেতৃত্বের প্রয়োজন অনুভূত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই শীর্ষ পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন। ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারি একাডেমি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা এই ঝানু সামরিক কর্মকর্তা উপসাগরীয় যুদ্ধ ছাড়াও ইরাক ও আফগানিস্তানের সংঘাতগুলোতে সরাসরি ফ্রন্টলাইনে বিভিন্ন ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এমন একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া পেন্টাগনের ভেতরে চরম অস্থিরতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, গত বছরও জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল সি.কিউ. ব্রাউনসহ নৌ ও বিমানবাহিনীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

 

 

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি তুঙ্গে রয়েছে। সেখানে এলিট ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঠিক এমন এক মুহূর্তে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে।

 

 

ট্রাম্পের এই আশাবাদের পরপরই সেনাপ্রধানের অপসারণের ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জেনারেল জর্জের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব গ্রহণ করছেন জেনারেল ক্রিস্টোফার লানিভ, যিনি এর আগে প্রতিরক্ষা সচিবের সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রদবদল কেবল নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, বরং যুদ্ধের কৌশলে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সিনেমা হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দেখলেন বনলতা এক্সপ্রেস

পেন্টাগনে অস্থিরতা: যুদ্ধকালীন রদবদলে লানিভ হলেন নতুন সেনাপ্রধান

ইরান যুদ্ধের উত্তাপের মাঝেই মার্কিন সেনাপ্রধান জর্জ বরখাস্ত

Update Time : ১২:১৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : রয়টার্স

 

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ৪১তম চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে তাঁর পদ থেকে আকস্মিক বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ।

 

 

মার্কিন শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী একজন সেনাপ্রধান চার বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করলেও, নিয়োগের মাত্র তিন বছরের মাথায় জর্জকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

 

জেনারেল জর্জের বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পরেই পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে তিনি সরাসরি ‘বরখাস্ত’ শব্দটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, জেনারেল জর্জ সেনাবাহিনীর ৪১তম চিফ অব স্টাফের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।

 

 

পার্নেল আরও উল্লেখ করেন, “যুদ্ধ বিভাগ আমাদের জাতির প্রতি জেনারেল জর্জের কয়েক দশকের সেবার জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমরা তাঁর সুন্দর অবসর জীবন কামনা করি।” তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিবিএসকে জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীতে নতুন ধরনের নেতৃত্বের প্রয়োজন অনুভূত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই শীর্ষ পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন। ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারি একাডেমি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা এই ঝানু সামরিক কর্মকর্তা উপসাগরীয় যুদ্ধ ছাড়াও ইরাক ও আফগানিস্তানের সংঘাতগুলোতে সরাসরি ফ্রন্টলাইনে বিভিন্ন ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এমন একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া পেন্টাগনের ভেতরে চরম অস্থিরতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, গত বছরও জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল সি.কিউ. ব্রাউনসহ নৌ ও বিমানবাহিনীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

 

 

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি তুঙ্গে রয়েছে। সেখানে এলিট ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঠিক এমন এক মুহূর্তে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে।

 

 

ট্রাম্পের এই আশাবাদের পরপরই সেনাপ্রধানের অপসারণের ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জেনারেল জর্জের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব গ্রহণ করছেন জেনারেল ক্রিস্টোফার লানিভ, যিনি এর আগে প্রতিরক্ষা সচিবের সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রদবদল কেবল নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, বরং যুদ্ধের কৌশলে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।