ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নর্দার্ন মলুক্কা সাগরে কম্পন; ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ও উপকূলজুড়ে আতঙ্ক

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

ছবি : সংগৃহীত

 

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় নর্থ মালুকু প্রদেশের টারনেট উপকূলীয় এলাকায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালে সংঘটিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়াসহ পার্শ্ববর্তী দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে জরুরি সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আল জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল টারনেট শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে নর্দার্ন মলুক্কা সাগরে, যার গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। প্রাথমিকভাবে কম্পনের মাত্রা ৭ দশমিক ৮ ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ৪ নির্ধারণ করা হয়। কম্পনটি এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী ছিল, যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। টারনেটের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী বুদি নুরগিয়ান্তো জানান, হঠাৎ দেয়াল কাঁপতে শুরু করলে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। রাস্তায় নেমে দেখেন শত শত মানুষ আতঙ্কিত অবস্থায় ছোটাছুটি করছেন; এমনকি অনেকে গোসল শেষ না করেই প্রাণভয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছেন।

 

ভূমিকম্পের ফলে মানাদো ও টারনেট শহরের অনেক ঘরবাড়ি ও ভবন ধসে পড়েছে। মানাদোর একজন গাড়িচালক জানান, কম্পন শুরু হওয়া মাত্রই তিনি রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে দেন যাতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা গাছ ভেঙে গায়ের ওপর না পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনের নিচে কেউ আটকা পড়েছে কি না তা দেখতে দমকলকর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। উঁচু ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত একজন। টারনেট ও তিদোরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

 

মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ১,০০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বিপজ্জনক সুনামি আঘাত হানতে পারে। প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার কিছু উপকূলে জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে শূন্য দশমিক ৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া গুয়াম, জাপান, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের উপকূলে ছোট আকারের ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, তাদের দেশে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ২ মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে, তবে এতে বড় ক্ষতির শঙ্কা নেই।

 

ইন্দোনেশিয়া মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের অত্যন্ত সক্রিয়রিং অব ফায়ার’ (Ring of Fire) অঞ্চলে অবস্থিত। একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে এই দ্বীপরাষ্ট্রে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। আজকের এই ভূমিকম্পটি আবারও সেই ভৌগোলিক ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিল। বর্তমানে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

সূত্র: রয়টার্স

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি

নর্দার্ন মলুক্কা সাগরে কম্পন; ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ও উপকূলজুড়ে আতঙ্ক

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

Update Time : ১০:৪৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় নর্থ মালুকু প্রদেশের টারনেট উপকূলীয় এলাকায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালে সংঘটিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়াসহ পার্শ্ববর্তী দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে জরুরি সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আল জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল টারনেট শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে নর্দার্ন মলুক্কা সাগরে, যার গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। প্রাথমিকভাবে কম্পনের মাত্রা ৭ দশমিক ৮ ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ৪ নির্ধারণ করা হয়। কম্পনটি এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী ছিল, যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। টারনেটের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী বুদি নুরগিয়ান্তো জানান, হঠাৎ দেয়াল কাঁপতে শুরু করলে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। রাস্তায় নেমে দেখেন শত শত মানুষ আতঙ্কিত অবস্থায় ছোটাছুটি করছেন; এমনকি অনেকে গোসল শেষ না করেই প্রাণভয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছেন।

 

ভূমিকম্পের ফলে মানাদো ও টারনেট শহরের অনেক ঘরবাড়ি ও ভবন ধসে পড়েছে। মানাদোর একজন গাড়িচালক জানান, কম্পন শুরু হওয়া মাত্রই তিনি রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে দেন যাতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা গাছ ভেঙে গায়ের ওপর না পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনের নিচে কেউ আটকা পড়েছে কি না তা দেখতে দমকলকর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। উঁচু ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত একজন। টারনেট ও তিদোরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

 

মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ১,০০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বিপজ্জনক সুনামি আঘাত হানতে পারে। প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার কিছু উপকূলে জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে শূন্য দশমিক ৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া গুয়াম, জাপান, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের উপকূলে ছোট আকারের ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, তাদের দেশে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ২ মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে, তবে এতে বড় ক্ষতির শঙ্কা নেই।

 

ইন্দোনেশিয়া মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের অত্যন্ত সক্রিয়রিং অব ফায়ার’ (Ring of Fire) অঞ্চলে অবস্থিত। একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে এই দ্বীপরাষ্ট্রে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। আজকের এই ভূমিকম্পটি আবারও সেই ভৌগোলিক ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিল। বর্তমানে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

সূত্র: রয়টার্স