সংগৃহীত ছবি
সিনেমার পর্দায় ডাকাতির দৃশ্য মানেই চরম আতঙ্ক আর রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি। কিন্তু বাস্তব জীবনে ঘটল তার ঠিক উল্টো। হাতে ধারালো দা এবং বন্দুক নিয়ে একটি বারে ডাকাতি করতে ঢুকেছিলেন এক ব্যক্তি।
তবে ভয় পাওয়া তো দূরের কথা, কর্মীদের লাগামহীন হাসি আর ঠাট্টার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত চরম বিভ্রান্তি নিয়ে খালি হাতেই ফিরতে হলো সেই ‘দুর্ভাগা’ ডাকাতকে। স্পেনের মালাগা শহরের ‘লা বারাকা দে লা আবুয়েলা’ নামের একটি বারে এই অদ্ভুতুড়ে ঘটনাটি ঘটেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হঠাৎ করেই হাতে একটি বড় দা নিয়ে বারে ঢুকে পড়ে এক ব্যক্তি এবং চিৎকার করে টাকা দাবি করতে থাকে। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে সবার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও, এই বারের কর্মীদের প্রতিক্রিয়া ছিল অভাবনীয়। তারা লোকটিকে নিয়মিত কোনো গ্রাহক ভেবে বসেন এবং মনে করেন কেউ হয়তো রসিকতা করে ছদ্মবেশে ভয় দেখাতে এসেছে। একজন কর্মচারী হাসতে হাসতে ডাকাতের হাত থেকে অস্ত্রটি কেড়ে নেন এবং অবলীলায় মন্তব্য করেন, “আরে, এটা তো খেলনা!”
কর্মীদের এমন ‘ক্যাজুয়াল’ আচরণে ডাকাত নিজেই থতমত খেয়ে যায়। নিজেকে গুরুত্ব দিয়ে দেখানোর জন্য সে এবার পকেট থেকে একটি বন্দুক বের করে কাউন্টারে আঘাত করতে থাকে। এমনকি পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে এক কর্মচারীর গলায় দা ধরে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। উল্টো অন্য এক কর্মচারী রসিকতার সুরে জানতে চান, “পুলিশ ডাকব নাকি?” পাশ থেকে অন্যজন মন্তব্য করেন, “তোমার হাতের এই দা-টি নিশ্চয়ই কোথাও থেকে চুরি করা!”
বারবার চেষ্টা করেও কাউকে আতঙ্কিত করতে না পেরে এবং কর্মীদের উপহাসের মুখে পড়ে একপর্যায়ে হতাশ হয়ে পড়ে ওই ডাকাত। কোনো টাকা-পয়সা বা মালামাল ছাড়াই সে মুখ কালো করে বার থেকে বেরিয়ে যায়। পরে জানা যায়, সেই ব্যক্তি একই কায়দায় মালাগার লাস লাগুনাস এলাকার আরও কয়েকটি বারে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছিল।
ঘটনার রেশ কাটার পর বারের কর্মীরা যখন জানতে পারেন যে ব্যক্তিটি একজন প্রকৃত অপরাধী ছিল, তখন তারা নিজেদের অজান্তেই করা সাহসিকতায় চমকে ওঠেন। এক কর্মী গণমাধ্যমকে বলেন, “ও যখন ঢুকেছিল, আমরা সবাই ভেবেছিলাম পরিচিত কেউ মজা করছে। তাই সবাই হাসাহাসি করছিলাম।
ও যে সত্যিই ডাকাতি করতে এসেছে, সেটা ঘুণাক্ষরেও মাথায় আসেনি।” উল্লেখ্য, পরে অন্য একটি জায়গায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাকে আটক করে। এই চাঞ্চল্যকর ও হাস্যকর ডাকাতির চেষ্টার ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















